রুমে এসে মৌ এর কেমন যেনো অস্বস্তি অনুভুতি হচ্ছে। মনের ভিতর খচখচ করছে। মনে হচ্ছে জীবনের সবচেয়ে বড় একটা ভুল ডিসিশন সে নিয়েছে।কেনো যেনো খুব কান্না করতে ইচ্ছা হচ্ছে মৌ এর। কিন্তু পারছে না। কারন মাথাটা খুব যন্ত্রনা করছে।
শুধু আয়ানের কথা মনে আসছে মৌ এর। নিজেকে হাজারোবার আটকানোর চেষ্টা করেছে যে আয়ানের কোনো কথা যাতে মনে না আসে। কিন্তু এই মনটা প্রতিবার আয়ানের কথা মনে করিয়ে দেয়। খুব কষ্ট হচ্ছে মনের মধ্যে তার ।এখন আবার তার ইচ্ছা করছে আয়ানকে দেখতে।বিরক্তি লাগছে তার সবকিছুতেই।
পরেরদিন,
মৌ কে দেখতে আসবে ইফাত আর তার পরিবার।জান্নাত মৌ কে সাজিয়ে দিচ্ছে। এক প্রকার মন মরা হয়ে বসে আছে মৌ।জান্নাত মৌ কে দেখে বললো,
"কি হয়েছে মৌ??এভাবে চুপ করে আছো কেনো??"
মৌ কোনো জবাব দিলো না। চুপ হয়ে বসে আছে।
জান্নাত আবারো বললো,
"মৌ তুমি কি আয়ানকে ভালোবাসো??"
এ কথা শুনে মৌ জান্নাতের দিকে তাকালো।কিন্তু কিছুই বললো না।জান্নাত মৌ কে ধাক্কা দিয়ে বললো,
"মৌ, এভাবে বসে থাকলে কিছুই হবে না।যদি আয়ানকে ভালোবেসে থাকো তাহলে প্লিজ এ বিয়েটা ভেঙে দাও। নাহলে একসাথে ৩টা জীবন নষ্ট হবে। এছাড়া আর কিছুই না।"
এবার মৌ জান্নাতকে ধরে কেঁদে ফেলে।কাঁদোকাঁদো কণ্ঠে বললো,
"ভাবি, আমি পাগল হয়ে যাবো। আমি আর ভাবতে পারছি না।আমি কি করবো?আয়ানকে কি বিশ্বাস করবো?ওর ভালোবাসাকে কি বিশ্বাস করবো?
আচ্ছা, নাহয় বিশ্বাস করলাম।কিন্তু পরে যদি আমাকে ধোঁকা দিয়ে দেয়??"
"দেখো মৌ এতোদিক দেখলে হবে কিভাবে?মানলাম আয়ান ভাইয়ার আগেকার অভ্যাস ভালো ছিলো না। কিন্তু আমার মনে হয় কি জানো?আয়ান ভাইয়া সত্যিই তোমাকে ভালোবাসে। আমার মন বলছে। আর তুমিও যে উনাকে ভালোবাসো সেটাও জানি। কিন্তু তুমি নিজে সিওর হতে পারছো না।একটু সময় নিয়ে ভেবো বিষয়টা।"
জান্নাত আর কিছু না বলে চলে গেলো রুম থেকে।
ইফাত আর তার পরিবার মৌ কে দেখে চলে গেলো। তারা এটাও বলে গেলো যে মেয়ে পছন্দমত হয়েছে এবং তারা বাসায় গিয়ে বিয়ের তারিখ ঠিক করে জানাবে।
সবাই খুশি হলেও মৌ এর মনে খুশি নেই। সাথে জান্নাতেরও।মৌ এর ইচ্ছা করছে এখনই বিয়ে ভেঙে দিতে। কারন এ বিয়ে করে সে কখনোও খুশি হতে পারবে না,এটুকু বুঝে গিয়েছে।কিন্তু বিয়েটা তো করতে হবে তাকে কারন এ বিয়ের সাথে তার বাবার মান সম্মান জড়িয়ে আছে।সে চাইলেও এ বিয়েতে অমত জানাতে পারবে না।
পরেরদিন মাহতাবের ফোনে কল এলো। সে জানতো পারলো যে আয়ান এএক্সিডেন্ট করেছে। এ খবর শুনে সে আয়ানকে দেখতে যাওয়ার জন্য রেডি হতে থাকে মাহতাব। মাহতাবকে রেডি হতে দেখে জান্নাত বলে,
"আপনি হঠাৎ কোথায় যাচ্ছেন?"
"আর বলো ন।আয়ান এক্সিডেন্ট করেছে। তাই ওকে দেখতে যাচ্ছি।"
আয়ানের এক্সিডেন্ট এর কথা শুনে উদ্বিগ্ন কণ্ঠে জান্নাত বলে,
"কিভাবে হলো এসব??উনি ঠিক আছেন তো??"
"সেসব কিছুই জানি না। আরিফ আমাকে যাস্ট ফোন দিয়ে বললো যে আয়ান এক্সিডেন্ট করেছে। সেখানে গেলে তবেই বুঝতে পারবো কি হয়েছে আসলে।"
"হুম তাড়াতাড়ি যান।"
এদিকে আয়ানের এক্সিডেন্ট এর কথাটা দরজার আড়াল থেকে শুনেছে মৌ। এক্সিডেন্ট এর কথা শুনেই বুক ধক করে উঠে মৌ এর। হার্ট খুব জোরে জোরে বিট করছে এ কথা শোনার পর।মৌ দরজার কাছেই ঠায় দাঁড়িয়ে রইলো।মাথা কাজ করছে না। কি করা উচিত এখন তার সেটাও বুঝছে না।
রেডি হয়ে মাহতাব রুম থেকে বের হওয়ার সময় দরজার কাছে মৌ কে দেখে বলে,
"কি রে মৌ এখানে কেনো??"
মৌ কোনো জবাব দেয়না। তার চেহারায় যে স্পষ্ট একটা শক খাওয়ার ভাব ফুটে উঠ। যা জান্নাত খেয়াল করে।
মাহতাব কোনো জবাব না পেয়ে মৌ এর হাত ধরে হালকা ঝাঁকি দিয়ে বলে,
"কি হলো এভাবে এখানে দাড়ীঁয়ে আছিস কেনো??কোনো সমস্যা??"
মৌ এবার বলে,
"নাহ নাহ ভাইয়া কোনো সমস্যা নেই। "বলে নিজের রুমে চলে যায়।আর মাহতাব চলে যায় হসপিটালে।
রুমে এসে দরজা আটকিয়ে দেয় মৌ। খুব টেনশন হচ্ছে তার। রুমের মধ্যে অনবরত পায়চারি করছে সে।কিছুতেই নিজেকে শান্ত করতে পারছে না সে।অস্বস্তি লাগছে মনের মধ্যে আয়ানের এক্সিডেন্ট এর কথা শোনার পর।মৌ নিজেই নিজেকে বলছে,
"আর ভালো লাগছে না।আয়ান ভাইয়াকে দেখতে ইচ্ছা করছে খুব। উনি এখন কেমন আছেন? খুবই খারাপ অবস্থা না তো আবার? সুস্থ হয়ে যাবেন তো উনি?
উনাকে না দেখা এপর্যন্ত একটুও ভালো লাগবে না। কিন্তু উনাকে দেখতে যাবো কিভাবে? ভাইয়া তো হসপিটালে।আমাকে যদি হসপিটালে দেখে তাহলে তো কারনটা জিজ্ঞাসা করবে। তখন আমি কি বলবো?কি কারনে এসেছি।তাহলে কি যাবো না?কিন্তু আবার না গিয়েও থাকতে পারবো না।"
এসব ভাবতে ভাবতে মৌ এর রুমের দরজায় নক পরলো। সে গিয়ে দরজা খুলে দেখলো জান্নাত দাড়ীঁয়ে আছে। জান্নাত রুমেদ ভিতরে ঢুকে বললো,
"আয়ান ভাইয়ার জন্য খুব চিন্তা হচ্ছে তাইনা?"
মৌ প্রথমে ভাবলো না বলবে।পরে ভাবলো ভাবির কাছ থেকে লুকিয়ে লাভ কি।সে উদ্বিগ্ন হয়ে বললো,
"ভাবি, আয়ান ভাইয়াকে নিয়ে খুব টেনশন হচ্ছে আমার। উনি এখন কেমন আছেন,ভাইয়াকে একটু ফোন দিয়ে জিজ্ঞাসা করো না।প্লিজ ভাবি প্লিজ।"
"আচ্ছা তুমি শান্ত হও। আমি ফোন দিচ্ছি। "
বলে জান্নাত মাহতাব কে ফোন করলো।
"হ্যালো মাহতাব।আয়ান ভাইয়া এখন কেমন আছেন?"
"খুব একটা ভালো না।অবস্থা অনেক খারাপ ছিলো। এখন আগের থেকে কিছুটা ভালো।তবে এতে কোনো লাভ হবে না। খুব ব্লাড লস হয়েছে। আরিফ ওকে ব্লাড দিয়েছে। প্রয়োজনে আমার ব্লাড ও লাগতে পারে।তুমি দোয়া করো যেনো ও সুস্থ হয়ে যায়।"
"হুম।ইনশাল্লাহ উনি সুস্থ হয়ে যাবেন।আচ্ছা তাহলে ফোন রাখি।"
"হুম।"
জান্নাত মৌ এর দিকে তাকালো।চেহারায় স্পষ্ট চিন্তার ছাপ।মৌ জান্নাত কে জিজ্ঞাসা করলো,
"ভাবি কি অবস্থা উনার?"
"অবস্থা খুব একটা ভালো না। খুব ব্লাড লস হয়েছে।এখন আল্লাহ ভরসা।"
এ কথা শুনে মৌ এর টেনশন এর সীমা মনে হয়ে ছাড়িয়ে গেলো।মনের অজান্তেই চোখ দিয়ে টপটপ করে জল পরতে লাগলো মৌ এর।জান্নাত দেখে বললো,
"আরে মৌ কান্না করছো কেনো!!!"
"জানি না ভাবি।আমার কিছুই ভালে লাগছে না। আমি এখনই আয়ান ভাইয়াকে দেখতে যাবো।"বলে চোখ মুছে বসা থেকে উঠে দাড়াঁলো মৌ।
এ দেখে জান্নাত বললো,
"কিন্তু মৌ এখন গেলে তো তোমার ভাইয়া জেনে যাবে।"
"জানলে জানুক, কিন্তু আমি আর এভাবে বসে থাকতে পারছি না।ভাবি তুমি ভাইয়াকে হসপিটালের নামটা জিজ্ঞাসা করো।"
জান্নাত কিছুক্ষন চুপ থেকে বললো,
"আচ্ছা ঠিক আছে।সাবধানে যাও।"
মৌ আর কিছু না বলে হসপিটালের উদ্দেশ্যে রওনা দিলো।
🍁🍁
আয়ানের কেবিনের সামনে দাঁড়ীয়ে আছে মাহতাব আর তার কয়েকজন বন্ধু।
মৌ এগিয়ে এলো আয়ানের রুমের দিকে।মৌ কে এখানে দেখে মাহতাব খুব অবাক হলো।সে ভাবছে মৌ এখানে কি করছে।জান্নাত তাহলে তখন এইজন্য হসপিটালের নাম জানতে চাইলো।
মৌ এগিয়ে এসে মাহতাব কে জিজ্ঞাসা করলো,
"আয়ান ভাইয়া এখন কেমন আছে??"
আসার সাথে সাথে মৌ এর মুখে আয়ানের নাম শুনে মাহতাব মনে হয় আকাশ থেকে পরলো।সে কোনো জবাব দিতে পারলো না।আসিফ বললো,
"আগের থেকে কিছুটা সুস্থ। ধীরে ধীরে উন্নতি হবে শরীরের।"
"ওহ আচ্ছা। আমি কি উনাকে এখন দেখতে যেতে পারবো??"
"না। ডক্টর মানা করেছে।জ্ঞান ফিরলে তবেই দেখা করা যাবে। এখন দরজার বাইরে দিয়ে দেখতে পারবে।"
এটা শুনে মৌ কেবিনের দরজায় যে ছোটো কাচ আছে সেটা দিয়ে আয়ানকে দেখলো। আয়ানের অবস্থা দেখে মৌ এর চোখ দিয়ে আবারো পানি পরতে থাকলো।
মাহতাব যেভাবে দাঁড়ীয়ে ছিলো এখনও সেভাবে দাঁড়ীয়ে আছে। সে যে মৌ এর এখানে হুট করে আসায় অবাক হয়েছে তা সবাই বুঝতে পেরেছে।আসিফ গিয়ে বললো,
"তুই মৌ এর কাছে যা।"
আসিফ এর কথা শুনে মাহতাব মৌ এর কাছে গিয়ে কাঁধে হাত রাখলো।কারোর হাতের স্পর্শ পেয়ে মৌ পিছনে ফিরে তাকিয়ে দেখলো মাহতাব। সে মাহতাব কে দেখে নিজেকে আর কন্ট্রোল করতে পারলো না। মাহতাব এর কে জড়িয়ে ধরপ কান্না করতে লাগলো।আর বললো,
"ভাইয়া উনার সাথে এমন হলো কেনো??উনার কিছু হলে আমি ঠিক থাকতে পারবো না ভাইয়া।আমি সত্যিই মারা যাবো।"
বোনের মুখে এমন কথা শুনে মাহতাব নিজে থেকে মৌ কে ছাড়িয়ে দিলো এক ধমক।এতে মৌ এর কান্না থেমে গেলো।মাহতাব বললো,
"ও কে হ্যাঁ?যে ওর জন্য তুই মরার কথা বলছিস??তোর সাহস কি করে হয় অন্য একটা মানুষের জন্য মরার কথা বলতে??ও তোর হয় টা কি হুম??কি কারনে ওর প্রতি এতে দরদ তোর??"
মৌ কান্নামিশ্রিত কন্ঠে বলে,
"আমি ভালোবাসি উনাকে।খুব ভালোবাসি।"
এ কথা শুনে যেনো মাহতাব এর দুনিয়া থমকে গেলো। সে মেনে নিতে পারছে না বিষয়টা। কারন সে আয়ানের অভ্যাস জানে। এটা জানার পরও সে কিভাবে মেনে নিবপ আয়ান আর মৌ এর ভালোবাসা।তার উপর আবার মৌ এর বিয়ে প্রায় ঠিক হয়ে আছে। আজকালের মধ্যে ইফাতের পরিবার বিয়ের তারিখ ঠিক করে জানিয়ে দিবে।
মাহতাব মৌ কে বলে,
"মৌ তুই ঠিক আছিস তো?জানিস কি বলছিস তুই?
তুই কি আয়ান সম্পর্কে সব জানিস না??না জানলে আমি বলছি।"
"আমি আয়ান ভাইয়ার সম্পর্কে সব জানি।"
"সব জানার পরও তুই কিভাবে পারলি ওকে ভালোবাসতে??"
"প্রথমে নিজেকে অনেক বুঝাই।কিন্তু শেষ পর্যন্ত পারলাম না আয়ান ভাইয়াকে না ভালোবেসে। আর আয়ান ভাইয়াও তো আমাকে ভালোবাসে।"
মাহতাব আর কিছু বলতে যাবে কিন্তু তার আগেই আসিফ বলে,
"মাহতাব এখন চুপ কর প্লিজ।এটা হসপিটাল।সবাই তোদেরকে কেমন করে দেখছে একবার খেয়াল করেছিস??এসব নিয়ে পরে কথা বলিস। এখন আমাদের সর্ব্বোচ্চ প্রায়োরিটি হওয়া উচিত আয়ানের স্বাস্থ্য এর দিকে।এখন তুই শান্ত হ।"
আসিফের কথা শুনে মাহতাব গিয়ে বসে আর মৌ সেখানেই দাড়ীঁয়ে থাকে।
🍁🍁
এভাবে ১সপ্তাহ কেটে যায়। আয়ান এখন আগের তুলনায় অনেক সুস্থ।এই এক সপ্তাহে অনেক কিছু ঘটে যায়। ইফাতপর পরিবার বিয়ের তারিখ ঠিক করে ফেলে।একমাস পর বিয়ের তারিখ ঠিক হয়।
আয়ানের জ্ঞান ফেরার পর পুলিশ স্টেটমেন্ট নেয় যে আসলে কি হয়েছিলো। আয়ানের কাছ থেকে তারা জানতে পারে যে সেদিন কিছু ছেলে ওকে বেদম পিটায়। পরে তাদেরই জিপ দিয়ে আয়ানের এক্সিডেন্ট করায়।যে জায়গায়। এসব হয়েছিলো সেখানকার সিসিটিভি ফুটেজ থেকে জিপ এর নাম্বার জানতে পারে পুলিশ। পরে খোঁজ নিয়ে ছেলেগুলোকে বের করে জানে যে এগুলো রাহাতের কাজ।পরে রাহাতকে এরেস্ট করে পুলিশ।
রাহাত পুলিশের কাছে বলে আয়ানের সাথে সেদিনকার মারামারির পর প্রচুর রাগ উঠে যায় তার। আর মৌ কে না পাওয়ার একটা ক্ষোভ তো আছেই। এজন্যই সে আয়ানের সাথে এমন করেছে।
একয়দিনে আয়ানের সাথে মৌ একবারও দেখা করেনি। দূর থেকে দেখেছে। আজকে অবশ্য মৌ গিয়েছে দেখা করার জন্য। সাথে মাহতাব ও। আয়ান যেহেতু এখন সুস্থ তাই মাহতাব আয়ান আর মৌ এর বিষয় নিয়ে কথা বলবে।
আয়ান চোখ বন্ধ করে শুয়ে আছে নিজ কেবিনে।মৌ আর মাহতাব দরজা খুলে রুমে ঢুকে আয়ানের পাশে গিয়ে বসলো।
কারোর উপস্থিতি টের পেয়ে আয়ান চোখ খুললো। চোখ খুলে মৌ কে দেখতে পেয়ে খুব খুশি হলো সে। কারন একয়দিনে একবারের জন্যও মৌ এর দেখা পায়নি সে।
মৌ আয়নকে জিজ্ঞাসা করলো,
"কেমন আছেন আপনি??"
"আগের চেয়ে আলহামদুলিল্লাহ ভালো। "
মাহতাব ওদের কথার মাঝে বললো,
"আয়ান, তুই কি মৌ কে সত্যিই ভালোবাসিস??"
মাহতাব এর এমন হুট করে এ বিষয়ে কথা বলায় আয়ান প্রথমে ভ্যাবাচেকা খেয়ে যায়। পরে নিজেকে সামলে নিয়ে বলে,
"হঠাৎ করে এই কথা কেনো?"
মাহতাব গম্ভীর স্বরে বলে,
"যা জিজ্ঞাসা করেছি তার উত্তর দে। প্রশ্নের জবাবে প্রশ্ন করিস না।"
আয়ান এটা শুনে জবাব দেয়,
"হুম।আমি মৌ কে অনেক বেশি ভালোবাসি।অনেক বেশি।"
"আচ্ছা,তোর স্বভাব সম্পর্কে আমরা সবাই জানি। তোকে কি করে বিশ্বাস করি বলতো।ভবিষ্যৎ এ তুই আমার বোন কে ধোঁকা দিবি না তো??"
আয়ান কিছুক্ষন চুপ থেকে বলে,
"অতিতে যা করেছি সব আমার ভুল ছিলো। নাহ গুনাহ ছিলো। আমি সঠিক পথে ছিলাম না।কিন্তু এখন আমি একদম ভালো হয়ে গিয়েছি। সব সম্ভব হয়েছে মৌ এর ভালোবাসার জন্য। মৌ এর ভালোবাসায় আমি এতোটাই বিভোর হয়ে গিয়েছিলাম যে নিজেকে শুধরে নিতে বাধ্য হই।আর আমার সাথে বিয়ে হওয়ার পর মৌ কে হ্যাপি রাখার দায়িত্ব আমার। আমি ওকে সব সুখ দেওয়ার যথেষ্ট চেষ্টা করবো।"
আয়ানের কথা শুনে মাহতাব একধরনের আশ্বস্ত পেলো।সে বললো,
"ঠিক আছে তোর কথায় বিশ্বাস করলাম। কিন্তু সমস্যা হলো মৌ এর বিয়ে ঠিক হয়ে গিয়েছে।"
মৌ এর বিয়ের কথা শুনে আয়ানের মনে হলো তার মাথায় আকাশ ভেঙে পরলো। এতোক্ষন শুয়ে থাকলেও এখন সে শোয়া থেকে উঠে বসে বললো,
"মাহতাব তুই মজা করছিস না তো??"
"এটা কোনো মজার বিষয় না।"
আয়ান একবার মাহতাব এর দিকে তাকাচ্ছে তো একবার মৌ এর দিকে তাকাচ্ছে।মৌ তো মাথা নিচু করে দাঁড়ীয়ে আছে। কি বলবেই বা সে।
আয়ান হাইপার হয়ে বললো,
"কার সাথে বিয়ে ঠিক হলো??আর কবে বিয়ে??"
মাহতাব আয়ানের পাশে গিয়ে বললো,
"তুই এতো হাইপার হইস না।এতে তোর শরীর অসুস্থ হয়ে পরবে।সুস্থ থাকলে তবেই তো কিছু একটা উপায় বের করতে পারবি।এ জন্য আগে তুই শান্ত হো প্লিজ।"
মাহতাব এর কথা শুনে আয়ান জোরে জোরে শ্বাস নিয়ে নিজেকে শান্ত করার চেষ্টা করলো।বেশ কিছুক্ষন পর আয়ান বললো,
"এবার বল।"
মাহতাব বললো,
"ছেলের নাম ইফাত। একমাস পরেই বিয়ে ঠিক হয়েছে।"
"মৌ কি বিয়েতে রাজি??"
"মৌ রাজি হয়েছে বলেই তো কথা এতোদূর এগিয়েছে।"
মাহতাব এর এ কথা শুনে আয়ান রাগি চোখে মৌ এর দিকে তাকালো।এ দেখে মৌ তো পারলে এ রুম থেকে এখনি বের হয়ে যায়।কিন্তু তা তো আর পারছে না সে।
আয়ান মাহতাব কে উদ্দেশ্য করে বললো,
"যেহেতু কথা এতোদূর এগিয়েছে তাহলে বিয়ে ভাঙাটা ডিফিকাল্ট। "
"যাই করিস না কেনো,আব্বু আর মৌ এর সম্মানের দিকে খেয়াল রেখে করিস।"
"হুম, সেটা তো অবশ্যই খেয়াল রাখবো।আমাকে আগে ভাবতে দে কি করা যায়।"
কিছুক্ষন পর আয়ান বলে,
"তোর কাছে শাওনের নাম্বার আছে??"
"হ্যাঁ আছে তো। কেনো??"
"এতো প্রশ্ন পরে আগে তুই ওকে ফোন দে।"
"আচ্ছা দিচ্ছি।"
এরপর মাহতাব শাওনের কাছে ফোন দিয়ে আয়ানেী দিকে ফোন এগিয়ে দেয়।শাওন ফোন রিসিভ করলে আয়ান বলে,
"শাওন,আমি আয়ান বলছি।কেমন আছিস?"
"আরে আয়ান তুই!!
আমি ভালো আছি। তুই??"
"আছি ভালো।তোর একটা হেল্প লাগবে।"
"হ্যাঁ বল।"
"ইফাত নামে এক ছেলে সম্পর্কে সব ডিটেলস লাগবে। ছবি মাহতাব পাঠিয়ে দিবে।কাজ হবে তো??"
"আরে দোস্ত কাজ হয়ে যাবে। কালকের মধ্যে সব নিউজ পেয়ে যাবি।"
"ওকে।"
বলে আয়ান ফোন রেখে দেয়।
মাহতাব আর মৌ দুজনে অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে আয়ানের দিকে।"
🍁
অনেকদিন পর আজকে বাসায় শান্তির ঘুম ঘুমালো আয়ান। গতকাল বিকালেই হসপিটাল থেকে ডিসচার্জ হয়ে বাসায় আসে আয়ান।
সকালের নাস্তা শেষ করতে না করতেই শাওনের কল চলে আসলো।ইফাত সম্পর্কে সব কিছু জেনে নিয়েছে সে।আয়ান তে সব জানতে পেরে মহা খুশি। সে ভাবেও নি এমন কিছু। এটার মাধ্যমেই বিয়েটা ভাঙা সম্ভব।
আয়ান মাহতাবকে ফোন করে মৌ কে নিয়ে একটা রেস্টুরেন্ট এ আসতে বলে।
🍁
"আয়ান তাড়াতাড়ি বল,কি ইনফরমেশন পেলি।"
"আচ্ছা বলছি রে।
ইফাত এর জিএফ ছিলো। আই মিন এখনো আছে। খুব ভালোবাসে মেয়েটাকে।কিন্তু সমস্যা সে খুব ইমোশনাল।বাবা মার কথা মানতে বাধ্য।এমন ছেলে সে। বাবা মা আরেক জায়গায় বিয়ে করতে বলেছে আর সে রাজিও হয়ে গিয়েছে।এই গার্লফ্রেন্ত ই পারে এই বিয়েটা ভাঙাতে।"
আয়ানের কথা শুনে মাহতাব আর মৌ এর মুখ চকচক করে উঠলো।মৌ এর তে খুশিতে নাচতে ইচ্ছা করছে।কিন্তু এতো খুশি হলে হবে না এখন।
ইফাতের গার্লফ্রেন্ত এর সাথে যোগাযোগ করে ইফাতকে নানাভাবে ইমোশানলি ব্ল্যাকমেইল করা হলো।অনেক কষ্টে মৌ এর সাথে বিয়ে ভাঙার জন্য রাজি করানো গেলো তাকে।
পরে ইফাত নিজ গিয়েই বিয়ে ভেঙে দিয়ে আসে।
মেয়ের বিয়ে ভাঙা নিয়ে আর মান সম্মান নিয়ে চিন্তায় তে মৌ এর আব্বুর বিপি লো হয়ে গিয়েছিলো। পরে উনাকে হসপিটালে ভর্তি করানো হয়।
🍁
বাসর ঘরে বসে আছে মৌ। আয়ানের জন্য অপেক্ষা করছে সে। কিন্তু এ অপেক্ষা যেনো শেষই হচ্ছে না।
মৌ আর আয়ানের বিয়েটা কিন্তু সবার মতেই হয়। মৌ এর আব্বু সুস্থ হয়ে বাসায় আসলে,আয়ান নিজে গিয়ে কথা বলে। সে যে মৌ কে ভালোবাসে,এ কথাটা শুনার পর মৌ এর আব্বু তো রাজি ই হবে না। পরে আয়ান,মাহতাব আর জান্নাত অনেক বুঝিয়ে বলে উনাকে।এরপর তিনি রাজি হন।
রাত ১টার দিকে আয়ান রুমে আসে।মৌ এর চোখ আধো বুজা হয়েছিলো।আয়ানের দরজা আটকানোর আওয়াজে চোখ খুলে মৌ। আয়ানকে দেখতে পেয়ে খাটের থেকে নেমে আয়ানের দিকে এগিয়ে যায় সে।আয়ানকে বলে,
"এতোদেরি হলো কেনো আসতে?আমি কতোক্ষন ধরে ওয়েট করছিলাম জানেন?"
আয়ান দুষ্টু হাসি দিয়ে বলে,
"এতো কিসের ওয়েট শুনি?বাসরের জন্য কোনো মেয়ে বুঝি এতো ওয়েট করে!!"
"এসব উল্টাপাল্টা ভাবনা আপনার মাথার মধ্যেই থাকে শুধু।"
"আমি তো আরো ওয়েট করাতে চেয়েছিলাম।কিন্তু পরে ভাবলাম আমার ওয়ান এন্ড অনলি বউটাকে কষ্ট দিয়ে কি লাভ।যদিও সে আমাকে অনেক ওয়েট করিয়েছে।"
মৌ মাথা নিচু করে বললো,
"পুরোনো কথা কি ভুলা যায়না?"
আয়ান কিছু না বলে মৌ কে কোলে তুলে বারান্দার দিকে গেলো। তারা আজ সারারাত জ্যোৎস্নাবিলাস করবে।
.
.
.
সমাপ্ত................................